Ticker

6/recent/ticker-posts

দীক্ষা কেন নিতে হয়? Dikka Diksha

 


জীবনে কারও কাছ থেকে দীক্ষা নিলেই তিনি গুরু হন, আর দীক্ষা না নিলে তাঁকে গুরু হিসেবে মানা যাবে না—এমন ধারণা সর্বক্ষেত্রে সঠিক নয়।

গুরুদেব ভগবানের একটি প্রবচনে শুনেছিলাম, তিনি বলেছিলেন—

“আমি বারবার ‘রাধা রাধা’ বলি। তুমিও যদি আমাকে গুরু বলে মেনে ‘রাধা রাধা’ জপ করো এবং দূরে থেকেও আমার নির্দেশিত পথ অনুসরণ করো, তাহলেই তুমি আমার শিষ্য।”

অনেক ভক্ত আছেন, যারা গুরুর কাছ থেকে দীক্ষা গ্রহণ করার পরও তাঁর আদেশ-উপদেশ অমান্য করেন। কেবল দীক্ষা গ্রহণ করলেই তার পূর্ণ ফল লাভ হয় না; গুরুবাণী অমান্য করলে সেই সাধনার মাহাত্ম্য নষ্ট হয়ে যায়।

আবার এমন অনেকেই আছেন, যারা আনুষ্ঠানিকভাবে দীক্ষা না নিয়েও দূর থেকে গুরুকে শ্রদ্ধা ও মান্য করেন এবং তাঁর প্রদর্শিত পথ নিষ্ঠার সঙ্গে অনুসরণ করেন। তাঁরাও প্রকৃত অর্থে গুরুর শিষ্য বলে বিবেচিত হতে পারেন। শাস্ত্র ও সাধু-সন্তদের জীবনীতে এমন বহু ব্যাখ্যা ও উদাহরণ রয়েছে, যা থেকে বোঝা যায় যে দূর থেকেও গুরুকৃপা লাভ করা সম্ভব।

তবে শুধু দীক্ষা গ্রহণ করাই যথেষ্ট নয়; গুরুর বাণী ও নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করাই প্রকৃত শিষ্যত্বের পরিচয়। গুরুর নির্দেশকে শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করাই একজন শিষ্যের কর্তব্য।

অনেক আধ্যাত্মিক লীলায় দেখা যায়, গুরুর নির্দেশ বাহ্যিকভাবে ভুল বা অযৌক্তিক মনে হলেও, শিষ্য যদি অটল বিশ্বাস ও একনিষ্ঠ ভক্তির সঙ্গে তা পালন করেন, তবে তিনি ভগবানের কৃপা ও দর্শন লাভ করেন। তাই গুরুবাক্য অমান্য করা কোনো শিষ্যেরই উচিত নয়।

বৈষ্ণব মতে বলা হয়—

“কৃষ্ণ রুষ্ট হইলে গুরু রাখিবারে পারে,
গুরু রুষ্ট হইলে কৃষ্ণ রাখিবারে নারে।”

জয় জয় রাধাবল্লভ শ্রীহরিবংশ। 🌺🙏


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ